হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘জুঁইর’। শুদ্ধ বাংলায় বর্ষাকালীন এই উপকরণের নাম জানিনা। কবে, কোথায় কোন মহারথী বিজ্ঞানী এর আবিষ্কারক তাও জানা নেই। বর্ষাকালে বৃষ্টির সময় শ্রমিকরা মাঠে চাষাবাদের কাজ করতে (গ্রামীণ ভাষায় ‘হাইল্যা’) এই জিনিস ব্যবহার করে নিজেদের বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতেন। এটি গৃহস্থের বাড়িতে শোভা পেত। বর্ষা শেষে সযত্নে রাখা হত।
বর্তমান সময়ে আগের মতোই চাষাবাদ হচ্ছে। কিন্ত চোখে পড়েনা আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘জুঁইর’। এখন দেখা যায় ‘জুঁইর’ এর পরিবর্তে পলিথিনের তৈরী রেইনকোট পরে মাঠে কাজ করতে।
এভাবে ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে পুঁথি পাঠের আসর, ‘হাইল্যা’ গীত, ঢেঁকি ও ‘ঢলইনে’ ধান মাড়াই, পাল্কিতে করে বউ আনা, গরু-মহিষের পাল দিয়ে ধান মাড়াই, লাল চাউলের ‘হাইল্যা’ ভাত, ভাদ্র মাসে বউ ফিরানো, মধু ভাত, ‘পাক্কন’ পিঠা, চিতল পিঠা, ‘আতিক্কা’ পিঠা, মাটির বাসন-কোসন, কলাপাতার ভাতের মোচা, সিঁন্দুক, কাপড় রাখার ‘চাউম্মা’, পায়ের খড়ম, পরনের ‘চুলি’, কোমরের জালি ইত্যাদিসহ আরও কত কিছু।
বয়সে তরুণ হলেও ঐতিহ্য ধরে রাখতে ‘জুঁইর’ ব্যবহারকারী আব্দুর রহমান হাশেমী বলেন, বর্ষাকালে আমাদের পূর্বপুরুষরা এই ‘জুঁইর’ দিয়ে হালচাষসহ সব কাজ সেরেছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আজ সেই ‘জুঁইর’ বিলুপ্তির পথে। তাই আগামী প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে তুলে ধরতে ‘জুঁইর’ মাথায় দিয়ে ছবি তুলে রেখেছি।
সূর্যোদয় :- ৫:১০ | সূর্যাস্ত :- ৬:৪৯ |
নাম | সময় |
ফজর | ৪:১৫ |
যোহর | ১২:১০ |
আছর | ৪:৫০ |
মাগরিব | ৬:৪৫ |
এশা | ৮:১৫ |