রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ০৮:১৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
Logo চট্টগ্রামে সম্প্রীতি জোরদারে টেকনাফের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ফ্রেন্ডলি টুর্ণামেন্টের আয়োজন Logo অবশেষে উখিয়ায় নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার Logo মাছ ধরতে গিয়ে সাগরে নিখোঁজ ২ ছাত্রের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার Logo চকরিয়ায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত Logo মাতামুহুরী নদীতে ডুবে কিশোরীর মৃত্যু, অপর ২ বোনকে জীবিত উদ্ধার Logo খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র পাচারকালে আটক পাচারকারী ৭ Logo সাগরপাড়ে মাছ ধরতে গিয়ে স্রোতের টানে ভেসে গেছে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউপির দুই শিক্ষার্থী Logo রামু থেকে ৯৫ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২ Logo আরও ৫ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মিরা Logo রোহিঙ্গা অপহরণকারীর হাত থেকে কিশোরী উদ্ধার

টেকনাফে টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দী ২ হাজার পরিবার

রূপান্তর ডেস্ক
আপডেট শনিবার, ৫ জুলাই, ২০২৫, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

টেকনাফে ভারী বর্ষণে এ পর্যন্ত অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও শুক্রবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে টেকনাফে একটানা ভারী থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাত শুরু হয়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কম-বেশি নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অসংখ্য পরিবার। অনেক পরিবার এখনো পর্যন্ত চুলোয় আগুন জ্বালাতে পারেনি।

টেকনাফ পৌরসভার কলেজ পাড়ার অধিকাংশ বসতবাড়ি, শীলবনিয়া পাড়া, ডেইলপাড়া, জালিয়াপাড়া, অলিয়াবাদ, খানকারডেইল, চৌধুরীপাড়া, কেকে পাড়ার একাংশ পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়া টেকনাফ সরকারি কলেজ, আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুরো প্রাঙ্গন পানিতে একাকার।
টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এনামুল হাসান বলেন, ভারী বৃষ্টিতে অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে বাসের অযোগ্য হয়ে গেছে। জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মূলত কিছু দুষ্কৃতকারী কর্তৃক খাল দখলের পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার না থাকায় এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সাবরাং ইউনিয়নের কুরাবুইজ্জা পাড়া, ফতেহলিয়া পাড়া, মুন্ডার ডেইল, চান্দলী পাড়ার একাংশ, হাদুর ছড়া, খুরের মুখের অধিকাংশ বসতবাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। এছাড়া ওই ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ মাঝের পাড়া, হাজীর পাড়া ও দক্ষিণ পাড়ার দেড় শতাধিক পরিবার; উত্তর পাড়ার মাঝের ডেইল, ডাঙ্গর পাড়ার পূর্ব পাশ, কোনার পাড়ার পশ্চিম পাশের শতাধিক পরিবার; ক্যাম্প পাড়া, বাজার পাড়ার শতাধিক পরিবার পানিবন্দি সময় পার করছেন। সর্বোপরি এ ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম রেজু বলেন, সকাল থেকে পানি নামানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। লোকজন নিয়ে বিভিন্ন স্থানে পানি চলাচলের বন্ধ মুখ কেটে দেওয়া হয়েছে। বিকেলে বৃষ্টি পড়া কিছুটা বন্ধ হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে। এখনো চুলায় আগুন জ্বালাতে পারেনি এই এলাকার অসংখ্য পরিবার। রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লান পাড়া, গোদার বিল, কোনকার পাড়া, নাজির পাড়া, মৌলভী পাড়ার একাংশ পানিতে ডুবে গেছে বলে জানা গেছে। এতে প্রায় ৩০০ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।
টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রফিক বলেন, একটানা বৃষ্টিতে প্রায় ঘরে পানি ঢুকে গেছে। রাত থেকে অনেক পরিবার চুলোয় আগুন জ্বালাতে পারেনি। তাই তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর ওয়ার্ডের পানিবন্দী পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেন।

হ্নীলা ইউনিয়নের রঙিখালী, লেদা লামার পাড়া, ওয়াব্রাং, চৌধুরী পাড়া, স্লুইচ গেইট এলাকার প্রায় ২০০-৩০০ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী বলেন, ভারী বর্ষণের প্রভাবে এই পাঁচ গ্রামের মধ্যে প্রায় ৩০০ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ একটু কমে যাওয়ায় আস্তে-ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে।

হোয়াইক্যং ইউনিনের উলুবনিয়া, রইক্ষং, উনচিপ্রাং, ঝিমংখালীর একাংশ পানিতে ডুবে গেছে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির প্রভাবে কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় এসব গ্রামের মানুষ দূর্বিষহ জীবন পার করছে।

বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী, পশ্চিম পুরান পাড়া, ডেইল পাড়া, বাইন্যা পাড়া, হলবনিয়া পাড়া, আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে।

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি কমে যাওয়ায় জমে থাকা পানি কমতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে পানিবন্দী পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার বিতরণের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টির প্রভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে পাহাড়, ঘটতে পারে প্রাণহানির মতো বড় দুর্ঘটনা। দিনমজুর, কৃষক, দোকানি প্রায় সবার আয়-রোজগার বন্ধ। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, সূর্যের দেখা নেই, রাত-দিন বৃষ্টি- এমন পরিস্থিতিতে চলাফেরা বন্ধ হয়ে গেছে। খাল-বিল পানিতে থৈ থৈ করছে। শিশুদের জীবন ঝুঁকির শঙ্কায় রয়েছে। ইতোমধ্যে আজ শনিবার দুপুরে বাড়ির পাশে জমে থাকা পানিতে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে টেকনাফের হ্নীলার এক শিশু এবং গতকাল শুক্রবার বাড়ির পাশের নালায় ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে সাবরাং ইউপির উত্তর নয়াপাড়া এলাকার দুই বছরের এক শিশুর।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদে নিয়ে আসা, নালা-ড্রেন পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া জরুরী মনে করছেন সচেতন মহল।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ এহসান উদ্দিন জানান, ভারী বৃষ্টির প্রভাবে টেকনাফ পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে পানিবন্দী হওয়ার খবর পেয়েছি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং পানিবন্দী পরিবার গুলোকে শুকনো খাবার বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া ঝুকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরণের আরো সংবাদ পড়ুন...
  • নামাজের সময়সূচি
  • রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • সূর্যোদয় :- ৫:১০ সূর্যাস্ত :- ৬:৪৯
    নাম সময়
    ফজর ৪:১৫
    যোহর ১২:১০
    আছর ৪:৫০
    মাগরিব ৬:৪৫
    এশা ৮:১৫