কক্সবাজারের পেচারদ্বীপ সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২ জনের মরদেহ পাওয়া গেলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরেক শিক্ষার্থী অরিত্র হাসান।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ৩য় দিনের মতো তাকে উদ্ধারে সাগরে চালানো হয় তল্লাশি। একযোগে উদ্ধার কার্যক্রম চালায় জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, লাইফ গার্ড কর্মী ও স্থানীয় জেলেরা।
এদিকে নিখোঁজ অরিত্র হাসানের অপেক্ষায় নাজিরারটেক সমুদ্র উপকূলে প্রহর গুনছিলেন তা পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গেও পড়েন।
তবে নিখোঁজ অরিত্র হাসানের পিতা সাকিব হাসান বলেন, এই মুহুর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় এবং হতভাগা পিতা আমি। আমার কিছু বলার নেই বা বলার মতো সেই ভাষাও নেই এবং মানসিকতাও নেই। আমি শুধু বলতে চাই, মানলাম ছেলেদের ওখানে নামা ঠিক হয়নি। বিশ^বিদ্যালয়ের ১ম বর্ষের পরীক্ষা শেষ করে একটা ছেলে কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বেড়াতে গেছে। কিন্তু ওখানে রিসোর্ট যেহেতু আছে, রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কি দায়িত্ব নয় লাইফ জ্যাকেট দিয়ে তার পর্যটকদের সমুদ্রে গোসলে নামার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা দেয়া। ওই সৈকত যদি বিপদজনক হয় তাহলে সেই সৈকতটাকে বিপদজনক ঘোষণা করে লাল পতাকা উড়িয়ে নিরাপত্তারক্ষী বসানো কি উচিত নয়? আমি শুধু এই প্রশ্ন রাখতে চাই সবার কাছে, জাতির কাছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলের কাছে। আমার মতো হতভাগা পিতার পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানাচ্ছি এবং আমি রাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করছি।
বৃহস্পতিবার ৩য় দিনের মতো ইনানী সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু করে মহেশখালী, সোনাদিয়া ও নাজিরারটেক চ্যানেলে উদ্ধার কাজ চালায় প্রশাসন। উত্তাল সাগরেও স্পীড বোট, জেড স্কী ও ট্রলার নিয়ে চলে তল্লাশী। আর অন্ধকার নেমে আসায় সন্ধ্যার পর ৩য় দিনের মতো তল্লাশী কার্যক্রম স্থগিত করে।
জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীদের সুপারভাইজার মো. মাহাবুব বলেন, নিখোঁজের ৩য় দিন সকাল থেকে জেড স্কী, স্পীড বোট ও ট্রলার নিয়ে সমুদ্রের মহেশখালী, সোনাদিয়া ও নাজিরারটেক চ্যানেলে তল্লাশী চালানো হয়। প্রায় ৫০ কিলোমিটার সমুদ্র এলাকায় এ কার্যক্রম চালানো হয়। আর ইনানী, হিমছড়ি, পেচারদ্বীপ, দরিয়ানগর ও কলাতলী পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়।
সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সুপারভাইজার মো. ওসমান গনি বলেন, এখনো কোন হদিস মেলেনি চবির আরেক নিখোঁজ শিক্ষার্থী অরিত্র হাসানের। তার সন্ধানে মহেশখালীর প্যারাবন ও সোনাদিয়ী দ্বীপে পায়ে হেঁটে তল্লাশী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থী অরিত্র হাসানকে না পাওয়া পর্যন্ত এ তল্লাশী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে পেচারদ্বীপ এলাকায় সাগরে গোসল করতে নামেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী অরিত্র হাসান (২২), আসিফ আহমেদ (২২) ও কে এম সাদমান রহমান সাবাব। ওইদিনই সকালে পেচারদ্বীপ সৈকতে ভেসে উঠলে কে এম সাদমান রহমানের মরদেহ উদ্ধার করেন জেলেরা। আর পরেরদিন বুধবার নিখোঁজের ২৬ ঘণ্টা পর কক্সবাজারের নাজিরারটেক সমুদ্রসৈকতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ আহমদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অরিত্র হাসান।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দোলন ভট্টাচার্য্য বলেন, এখনো নিখোঁজ রয়েছে চবির আরেক শিক্ষার্থী অরিত্র হাসান। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ড, ট্যুরিস্ট পুলিশ, লাইফ গার্ড কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় জেলেরাও কাজ করছেন।
সূর্যোদয় :- ৫:১০ | সূর্যাস্ত :- ৬:৪৯ |
নাম | সময় |
ফজর | ৪:১৫ |
যোহর | ১২:১০ |
আছর | ৪:৫০ |
মাগরিব | ৬:৪৫ |
এশা | ৮:১৫ |